মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

আমরা সাদ্দামের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি : মার্কিন সেনা

সম্প্রতি বই লিখেছেন মার্কিন সেনা সদস্য উইল বার্ডেনওয়ার্পার। ইরাকের স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার পর থেকে শেষ দিন পর্যন্ত যে ১২ জন তাকে পাহারা দিয়েছিল, উইল তাদের একজন। প্রথম দিকে তাদের সঙ্গে সাদ্দামের বন্ধুত্ব না থাকলেও এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে লেখা উইল বার্ডেনওয়ার্পারের ওই বইটির নাম ‘দা প্রিজনার ইন হিজ প্যালেস, হিজ অ্যামেরিকান গার্ডস, অ্যান্ড হোয়াট হিস্ট্রি লেফট আনসেইড’ নামে। যার অর্থ ‘নিজের প্রাসাদেই এক বন্দী, তার আমেরিকান প্রহরী – ইতিহাস যে কথা বলেনি’। এমন খবর প্রকাশ করে বিবিসি।

বইটি জুড়ে সাদ্দাম হোসেনকে শেষ সময় পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে। এমনকি সাদ্দামকে যখন জল্লাদদের হাতে তুলে দিলেন ফাঁসির জন্য, তখন তাদের ১২ জনেরই চোখে পানি এসে গিয়েছিল বলেও স্বীকার করেছেন বার্ডেনওয়ার্পার।

বার্ডেনওয়ার্পার তার এক সেনা-সঙ্গী রজারসনকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, আমরা কখনো সাদ্দামকে মানসিক বিকারগ্রস্ত হত্যাকারী হিসাবে দেখিনি। তার দিকে তাকালে নিজের দাদুর মতো লাগত অনেক সময়ে। জীবনের শেষ দিনগুলোতে সাদ্দাম তাদের সঙ্গে খুব ভাল ব্যবহার করতেন। ওই ব্যবহার দেখে বোঝাই যেত না যে সাদ্দাম হোসেন কোনো এক সময়ে একজন অত্যন্ত নিষ্ঠুর শাসক ছিলেন।

সাদ্দামের নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত মার্কিন সেনারাই তাকে একদিন জানিয়েছিলেন, তার ভাই মারা গেছেন। যে সেনাসদস্য খবরটা দিয়েছিলেন, সাদ্দাম তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, আজ থেকে তুমিই আমার ভাই। অন্য সেনাকে সাদ্দাম বলেছিলেন, যদি আমার সম্পত্তি ব্যবহার করার অনুমতি পাই, তাহলে তোমার ছেলের কলেজে পড়তে যা খরচ লাগবে, সব আমি দিতে রাজী।

কয়েকজন রক্ষী পরে বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন, তারা বিশ্বাস করতেন- যদি তাদের কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়, তাহলে সাদ্দাম তাদের বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনও বাজি রেখে দিতে পারেন।

সুযোগ পেলেই সাদ্দাম হোসেন পাহারার দায়িত্বে থাকা রক্ষীদের পরিবারের খোঁজখবর নিতেন। বার্ডেনওয়ার্পারের বইটাতে সব থেকে আশ্চর্যজনক বিষয়টার উল্লেখ করেন, সাদ্দামের মৃত্যুর পরে তার প্রহরীরা রীতিমতো শোক পালন করেছিলেন, যদিও তিনি আমেরিকার কট্টর শত্রু ছিলেন।

অ্যাডাম রজারসন নামের প্রহরী উইল বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন, সাদ্দামের ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পরে আমার মনে হচ্ছে আমরা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। নিজেদেরই এখন তার হত্যাকারী বলে মনে হচ্ছে। এমন একজনকে মেরে ফেললাম আমরা, তিনি যেন আমাদের খুব আপনজন ছিলেন।

সাদ্দাম হোসেনকে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনটার দিকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়েছিল। তাকে জানানো হয়েছিল, কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে ফাঁসি দেয়া হবে। তিনি চুপচাপ গোসল করে ফাঁসির জন্য তৈরি হয়ে যান। ফাঁসির কয়েক মিনিট আগে সেই সেনা সদস্যদের একজন স্টিভ হাচিনসনকে কারাকক্ষের বাইরে ডেকে পাঠান সাদ্দাম। এরপর লোহার শিকগুলোর মধ্যে দিয়ে হাতটা বের করে নিজের রেমন্ড ওয়েইল হাতঘড়িটা দিয়ে দেন স্টিভকে। হাচিনসন আপত্তি করলে সাদ্দাম কিছুটা জোর করেই ঘড়িটা স্টিভের হাতে পরিয়ে দেন। হাচিনসনের ঘরে এখনো সেই ঘড়ির কাঁটার শব্দ শোনা যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com